ভার্জিন মেয়ে পাত্রী হিসেবে কেমন

ভার্জিন মেয়ে পাত্রী হিসেবে কেমন?

ভার্জিন মেয়ে পাত্রী হিসেবে কেমন?তা বোযা যায় রাসূল ﷺ এর কথায় ❝কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে বলেছিলেন রাসূল ﷺ টগবগে যুবক এক সাহাবীকে। “বলেছিলেন, তোমার বয়সী কুমারী বিয়ে করে তুমি তাকে নিয়ে হাসি, ঠাট্টা, দৌড়-ঝাঁপ, পরম ভালোবাসায় জীবন পার কর❞ উল্লেখ্য, ওই সাহাবীটি এক বিধবা বিয়ে করেছিল, যার ছিল ৯ ছোট ভাই বোন এবং সবাইকে রেখে ওই বিধবা নারীর বাবা মারা যান।তাদের প্রতি খেয়াল রাখার নিয়তেই সাহাবীটি ওই মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। ওই সাহাবী উক্ত পরিবারের ভালো ভাবে দেখাশুনা করেছেন, তিনি কি অনেক টাকার মালিক ছিলেন কিংবা ধনকুবের? না!! ছিলেন নিতান্তই গরীব।

এই কথা এ জন্যই বলা গত কিছু বছর ধরে ফেসবুকে আমাদের বিয়ের ট্রেন্ডটাই চেঞ্জ। মনে হয়, কোটি টাকা না থাকলে কেউ এখন বিয়েই করতে পারবে না। সবার দৌড়ঝাঁপ এখন ধনী ছেলে এন্ড এস্টাব্লিশড বাপের মেয়ে বিয়ে করা। বরপক্ষের ৪০ জনের বাহিনী নিয়ে হামলা, মেয়ের হাতে ২ হাজার টাকা গুঁজে দিয়ে, নেক্সট টার্গেটে হিট।

আগে গায়ে হলুদ ছিল ঘরোয়া, এখন ক্লাব/মাঝারি সাইজের রেস্টুরেন্ট লাগে। লেভেলের স্টেজ লাগে, ছোট এক ❝বাহুবলি❞ বাহিনীর পার্লার থেকে সাজা সহ একই কালারের পাঞ্জাবি, শাড়ি তো আছেই। হিন্দি গানের তালে নাচ বাবদ একটা গ্যাং, যাদের অতিরিক্ত ভাঁড়ামি দেখে ঘেন্না জাগা সহ লক্ষ টাকা দিয়ে ক্লাব বুকিং হুয়াই? বিকজ ইজ্জত রক্ষা করতে হবে। ফটোগ্রাফার, ফেসবুকে পিক এবং সমাজকে দেখাতে হবে আমি কত ক্লাসি।

বিয়ের কনের সেইদিন থেকে চেষ্টা, তার বরকে ভারুন ধাওয়ানের মতো করে প্রেজেন্ট করতে। হাজার রকম বলিউড স্টাইল এ পোজ দেয়ার পর ও কাকুকে ছবিতে দেখাবে গোপালভাঁড়। এটা তো গেলো, বিয়ের কার্ড, রকমারি খাবার, প্রি ওয়েডিং, ওয়েডিং, পোষ্ট ওয়েডিং ফটোগ্রাফির খরচ। দামি পোশাক, গয়না, ফেরাফেরি, গেট ধরা, কাবিন, বকশিশ আতঙ্ক বিবিধ খরচ।

ওয়ালিমা, বৌভাত, বাসর রাত, নাইওর এর ছবি, ছবি গুলো তুলতে ক্লাসি পরিবেশ (ক্যান্ডেল লাইট) তৈরি করা বাবদ খরচ। হানিমুন, সারপ্রাইজ গিফট, তার জন্মদিন, তোমার জন্মদিন, ম্যারেজ এনিভার্সারি বিয়ের বছর খানেক পর্যন্ত ফেইসবুক এ আপলোড বাবদ ক্লাসি পরিবেশ তৈরী বাবদ খরচ। তারপর প্রেগনেন্ট হলে ছবি (এইটা নতুন ট্রেন্ড) বেবি শাওয়ার….এইভাবে চলছে।

আমরা ফুল দিচ্ছি, নিচ্ছি, হাটু গেড়ে বসছি, প্রপোজ করছি, জমানাকে দেখাচ্ছি আমরা কত কিউট কাপল। তারপর ও ডিভোর্স রেট বাড়ছে হুহু করে, এখন ঝগড়া করে মুখ ঘোমড়া করে না থেকে সবাই কর্পোরেট ডিভোর্স দিয়ে সম্মানজনক উপায়ে কাহিনি খতম❞ করে… wait শেষ না, বিয়ের প্রাপ্ত বয়স্ক দুজনের সম্মতিতে হলেও ডিভোর্স বাবদ আকাশছোঁয়া কাবিনের টাকা ছেলেকেই দিতে হবে, মেয়েই যত শিক্ষিত হোক, যতই জব করে নিজেকে চালানোর ক্ষমতা রাখুক টাকা তার চাই!! মুদ্রার অন্য পিঠে গিফট এর নামে যৌতুক।

আপনি মিডলক্লাস ছেলে/মেয়ে, চাকরি করে কত টাকাই বা ইনকাম। লোনের বোঝা মাথায় নিয়ে বিয়ে না করে, শো অফ না করে একজন সাধাসিধে মানুষ খুঁজে নিন কারণ বিপরীত লিঙ্গ হলে বন্ধু/বান্ধবী হওয়া যায়, প্রেমিক-প্রেমিকা হওয়া যায় কিন্তু ঘরের বৌ/জামাই হওয়া যায় না। সম্পর্ক শুধু শো-অফ আর টাকার গরমে টিকে না।

সম্পর্ক টিকে থাকে ভালোবাসার তীব্রতায়, ভালোবাসতে টাকা লাগে না, সে খেলো কিনা, তার জ্বর কতটা বাড়লো, সে কেন আজ এতো চুপচাপ এসব টুকিটাকি জানতে টাকা লাগে না। ভালোবাসা হচ্ছে একটা অভ্যাস, তার বুকে মাথা রাখার অভ্যাস, ঘুম চোখে জড়িয়ে ধরার অভ্যাস, নিজেকে ভেঙে তুমি আমিতে “আমরা” গড়ার অভ্যাস 💕

Leave a Comment: