রাসূল (সা) এর মা আমিনার হৃদয়বিদারক প্রস্থান

রাসূল (সা:) এর মা আমিনার হৃদয়বিদারক প্রস্থান।

Spread the love

রাসূল (সা:) এর মা আমিনার হৃদয়বিদারক প্রস্থান এর সময়  উনার বয়স ছিল ৬। মা আমিনা মৃত্যুরত অবস্থায় বারাকাকে বলেছিলেন, বারাকা আমার ছোট্ট বাবুটির কেউ নেই, ওকে দেখে রেখ, আজকেই থেকে তুমি তার মা। রাসূল ﷺ এর মৃত্যু সম্পর্কে ধারণা ঐটুকুন বয়সে ছিল না। কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কিচ্ছু একটা ঘটছে, খারাপ কিছু!! তিনি জোড় গলায় ডাকলেন ইয়া উম্মি, ইয়া উম্মি ইয়া উম্মি, যে মা তার সব স্বাদ আল্হাদ পূরণ করতো, সেই মায়ের কোন জবাব না পেয়ে তিনি কান্না করতে করতে মা আমিনার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন আর ঘাড়ে হাত রেখে ইয়া উম্মি, ইয়া উম্মি বলে প্রানপ্রিয় মাকে ডাকতে লাগলেন।

জবাব না পেয়ে, তিনি বারাকাকে (আবসিনিয়ান দাসী) বললেন: ইয়া বারাকা!! ইন আন্থি উম্মি বাদা উম্মি!! আমার মায়ের পরে আপনি আমার মা। ইয়া বারাকা আমাকে দেখেশুনে রাখুন। আপনি ছাড়া আমার কেউ নেই। এর পর ৫০ বছর কেটে গেলো, মদিনা থেকে মক্কা সফর কালে হঠাৎ মধ্যরাতে “আল আবুওয়াহ” নামক একটি স্থানে সব সাহাবীকে নিয়ে রাসূল ﷺ থামলেন।

অন্যদের বিশ্রাম করতে বলে গুটিকয়েক সাহাবী নিয়ে তিনি রাস্তা বদল করে তিনি ধূ ধূ মরুর বুকে হাঁটতে লাগলেন। হেঁটে এসে তিনি একটি কবরের পাশে দাঁড়ালেন। কিছুক্ষন বসে থাকার পর তিনি কান্না করতে লাগলেন, তার কান্না এতটা দীর্ঘ ছিল যে, তার শরীর কাঁপতে শুরু করে দিলো, তার কান্না এতটা বেদনাদায়ক ছিল যে তাকে দেখে আশেপাশের সাহাবীরাও কান্না শুরু করে দিলো।

রাসূল ﷺ এর এমন অবস্থা দেখে হজরত উমর (রা) তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ইয়া রাসূল ﷺ বলুন কি হয়েছে!! আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি কবরটি দেখিয়ে বললেন: এটি আমার মায়ের কবর। ইয়া উমর আমি আমার আম্মুকে মিস করছি, তাই কাঁদছি!! ঠিক উল্টো আজকের জেনেরেশনের ছেলে মেয়েরা না, মা-বাবা রা কাঁদছেন, ১০ বছর বয়সী ছেলেপেলে এখন মা বাবাকে জবাব দেয়, ওই তুমি কে আমার লাইফ নিয়ে কথা বলার? মোটর সাইকেল কিনে না দেয়ায় নিজের আব্বুর শরীর পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো ফারদিন, ঐশী নিজ মা বাবাকে হত্যা, নেশার টাকা না পেয়ে বাবার গলায় চুরি!! ৩৫ বছর বয়সী ছেলের সিভি নিয়ে বৃদ্ধ বাবা দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে আর সে টঙের দোকানে বসে বিড়ি টানে আর খিস্তিখেউড় উড়ায় ধোঁয়ায়।

হাফিজ আল মোমদাহারই থেকে বর্ণিত তারঘিব ওয়া তারহীব রিলেটেড টু ওয়ামান ইবনে হাসিব, একদিন তিনি ভ্রমণরত অবস্থায় এক কবরের পাশে এসে ঠিক আসরের পর দেখলেন, কবর থেকে অদ্ভুত প্রাণী বের হয়ে এলো যার শরীর গাধার মতো আর মুখ মানুষের মতো। কবর থেকে বের হয়ে সে প্রাণী তিন বার গাধার মতো চিল্লালো তারপর আবার কবরে ফিরে গেলো।

এই ঘটনার পর তিনি এলাকাবাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি!! আল্লাহ পাক কেন তাকে এইভাবে শাস্তি দিচ্ছেন। এলাকাবাসী বললেন, এই যুবক ছিল নেশায় আসক্ত। সারারাত যে মদ্যপ অবস্থায় থাকতো আর মধ্যদুপুরে সে বাসায় আসতো। আর তা মা তাকে নাসীহাহ দিয়ে বলতো আব্বু!! ইত্তাকুল্লা, আল খামরু জুমায়ই ইতিন, উম্মুল খাবাই, রিজ্যুমিল আমলী শেইতান!! বাবা নেশা শয়তানের ভাই, এর থেকে দূরে থাকো!! আল্লাহর করুনার ছায়াতলে আসো।

উত্তরে সে বলেছিলো, ওই আম্মু, গাধার মতো চিল্লানো বন্ধ কর, ঠিক আসরের সময় আল্লাহ তার জান কবজ করলো আর এইভাবে তাকে শাস্তি দিতে লাগলো……এই হাদিস যুগ যুগান্তরে সকল মুহাদ্দেস এর কাছে পেশ হয়েছিল, আর এই সহীহ হাদিস নিয়ে আজ পর্যন্ত কোন মোহাদ্দেস প্রশ্ন তো দূর টু শব্দ পর্যন্ত করেনি and the exact same thing happens today.

ওই মদ্যপ ছেলের মতোই আজকালকার অনেক ছেলে মেয়ে তাদের মা বাবার সাথে কটু কথা বলে। প্রিয় ভাই বোনেরা, নামাজে ভুল কর- একসেপ্টএবল, কোরআন পড়তে ভুল কর একসেপ্টএবল, শ্রেষ্ট মুসলিম হতে না পার-একসেপ্টএবল, কিন্তু মা বাবার প্রতি বেস্ট ব্যবহার যদি না দিতে পারো তাইলে তোমার দুনিয়া ও গেলো আখিরাত ও, রাসূল বলেছেন, রিদল রাব্বি রিদল ওয়ালিদ, ওয়াসা খাতা রাব্বি ওয়াসা খাতা ওয়ালিদ, মাতা-পিতার আনন্দে আল্লাহ আনন্দ, মাতা পিতার অসুন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসুন্তুষ্টি, মাতা-পিতা কাফের, মুরতাদ, মুশরিক, মুনাফিক, নাস্তিক হলেও তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে নাহলে দুনিয়া ও গেলো আখিরাত ও। দুনিয়া ও আখিরাত ও………..

Leave a Comment: