মৃত লাবিবের গার্লফ্রেণ্ডের নগ্ন/অর্ধনগ্ন ছবি ছড়াচ্ছে অনেকে।

মৃত লাবিবের গার্লফ্রেণ্ডের নগ্ন/অর্ধনগ্ন ছবি ছড়াচ্ছে অনেকে।

ভুল সবাই করে। কোন মানুষই ফেরেশতা না। অপরের দোষ ঢেকে রাখুন। সুখে থাকুন।মৃত লাবিবের গার্লফ্রেণ্ডের নগ্ন/অর্ধনগ্ন ছবি ছড়াচ্ছে অনেকে।

যাইহোক একদা মায়েজ ইবনু মালেক নামে একজন সহায় সম্বলহীন সাহাবী ছিলেন। তিনি একদিন রাসূল ﷺ এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর নবী আমাকে পবিত্র করুন। রাসূল ﷺ মুখ ঘুরিয়ে নিলেন আর বললেন: তুমি বাড়ি ফিরে যাও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও, তোমার পাপমুক্তি হয়ে যাবে। এই কথা শুনে তিনি একটু হেটে আবার ফিরে এসে বললেন: হে আল্লাহর নবী আমাকে পবিত্র করুন!! রাসূল ﷺ বললেন: বাড়ি ফিরে যাও, ক্ষমা চাও, তোমার পাপমুক্তি হয়ে যাবে। তিনি কিছু পথ গিয়ে আবার ফিরে এসে বললেন: আমাকে পবিত্র করুন!! রাসূল ﷺ আবারো একই কথা বললেন।

তিনি যখন আবার ফিরে আসলেন, রাসূল ﷺ সবার দিকে তাকিয়ে বললেন: অবেহ জুনুন- এই লোকটি কি পাগল? আমি আল্লাহর নবী বলছি ক্ষমা চাও আল্লাহ তোমাকে মাফ করবেন, তারপর ও সে ফিরে আসে, সে কি আমার কথা বুঝে না, সে কি পাগল?এক সাহাবী উঠে বললেন: ও পাগল না। ও ভালো মানুষ। রাসূল ﷺ তখন বললেন: আহ শেরেবা কামরান- সে কি মদপান করে এসেছে? হয়তো তার মস্তিষ্ক বিকৃতি হয়েছে। তখন অন্য এক সাহাবী তার মুখ শুকে বললো: না এ মদ পান করেনি। এ ভালো মানুষ। রাসূল ﷺ তাকে কাছে টেনে বললেন: তুমি কি জিনাহ করেছো? সাহাবীটি বললেন: জি মানুষ যা বৈধ ভাবে করে আমি তা অবৈধ ভাবে করেছি।

হাদিসের বাকি অংশ পরে। এই পর্যন্ত এসে আসুন আমরা আমাদের বিবেকের সাথে হাদিসের শেষ অংশ একটু বুঝি। এতক্ষন পর কেন? রাসূল ﷺ বললেন তুমি কি জিনাহ করেছো? কারণ তিনি সাহাবীটিকে প্রথম যখন দেখেছিলেন তখনি তিনি বুঝে ফেলেছিলেন এ জিনাহ করে এসেছে। তাই তিনি তার কথা না শুনেই বলেছিলেন বাড়ি ফিরে যাও। আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাও। পাপমুক্তি হবে। তিনি একবার না চারবার লোকটিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, নানান বাহানায় কথা ঘুরিয়েছেন তবুও জানতে চাননি ওই সাহাবীর পাপ কি?

আরও পড়ুন —-এতো পাপ করে আবার নামাজ ক্যামনে কি?

আসল ঘটনা কি? ময়েজ ইবনু মালেক এক ধনী মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন যার নাম ছিল হোজ্জাল। হোজ্জালের স্ত্রী মায়েজুন ইবনে মালিক কে প্রভোক করে অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ে। কথাটি হোজ্জাল জানতে পেরে সাহাবী মায়েজকে বললেন: ঘটনা যখন ঘটেই গেছে তুমি রাসূল ﷺ এর কাছে যাও উনি কি বিচার করে দেখ। বিচার হলো। আল্লাহর রাসূল প্রাণ প্রাণে চেষ্টা করলেন। কিন্তু পারলেন না। জিনাহ করার অপরাধে তাকে সাহাবী মায়েজকে মৃত্যু দেয়া হলো একমাত্র তার অধিক পীড়াপিড়ির কারণে।

এরপর অনেকদিন কেটে গেলো। আল্লাহর রাসূল ﷺ রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, পথে তার সাথে হোজ্জালের দেখা। মুখামুখি। তিনি হজ্জলকে বললেন: হোজ্জাল লাও শাতার্থ খাভরা মায়জুন মালেক বিন সাবিথ লাইতুনতা খাইরুন কাহাসির- তুমি যদি সাহাবী মায়জুনের দোষটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে তাহলে যে কত কত কত ভালো হত তা আমি তোমাকে যে কিভাবে বোঝাই। ইসিম তাবজিল- এই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল যার মানে এতো ভালো হত যা হিসেব করা যাবে না। কেন যে তুমি তাকে আমার কাছে পাঠালে হে হোজ্জাল। তুমি তো জানোই আমার কাছে কোন কথা প্রকাশ পেলে তার বিচার আমি করি। আমি অনেক চেষ্টা করেছি তাকে বাঁচানোর। উফ!! তুমি যদি তার দোষ ঢেকে রাখতে কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তোমার সব দোষ ঢেকে রাখতেন।

ভুল সবাই করে। কোন মানুষই ফেরেশতা না। অপরের দোষ ঢেকে রাখুন। সুখে থাকুন।

Leave a Comment: