শহরতলীর অলিতে গলিতে তাদের নিয়েই গল্প হউক

শহরতলীর অলিতে গলিতে তাদের নিয়েই গল্প হউক

শহরতলীর অলিতে গলিতে তাদের নিয়েই গল্প হউক গল্পটি শুরু করছি পারিবারিক আবহের ভালোবাসার কিছু পূর্ণতা নিয়ে।

বাসর রাতে আমার স্বামী আমাকে প্রেম নিবেদন করেছিল। বেচারা খুব একটা গুছিয়ে কথায় বলতে পারছিলো না। কিন্তু কথা গুলি এখনো আমার মনে বিঁধে আছে। সে বলেছিলো, “আমি কোটিপতি বাবার সন্তান নই, অল্প বেতনে চাকরি করি, তোমাকে হয়তো দামি সোনা গয়না প্রতি মাসে কিনে দিতে পারবো না, কিন্তু এক বুক ভালোবাসা দিতে পারবো। আমি তোমার প্রেমে পড়তে চাই।

আমি চুপ করে ছিলাম। পারিবারিক মতামতের উপর বিয়ে হওয়াতে আমি আমার বরকে ভালো ভাবেই চিনতাম না। কিন্তু, কতটা না মায়ার বাঁধনে যে আমাকে আপন করে নিলো। সেদিন আমি মিনমিন করে বলেছিলাম “আমি শুধুই আপনাকেই চাই।

মাস পেরোলো, বছর ঘুরতেই, যে মানুষটি ছাড়া আমার জীবন আমি কিছু কল্পনা করতে পারতাম না, সে মানুষটি আমাকে বলছে, তাকে ডিভোর্স দিয়ে অনত্র সংসার করার জন্য। আমার শশুড় শাশুড়ী আমাকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসে। আমার দুই দেবর বিবাহিত, তারা এবং তাদের বৌ আমাকে বড় বোনের মতো সম্মান করে। এদের ছেড়ে আমি কৈ যাবো?

কেউই আমাকে ধোঁকা দেয়নি, ধোঁকা দিয়েছে আমার ভাগ্য। কারণ আমার বর কোনোদিন বাবা হতে পারবে না। ইন্ডিয়া থেকে উন্নত চিকিৎসা করে এসে সেদিন আমার বর, আমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছে। কেঁদে কেঁদে বলেছিলো, জানো রুপা, আমি কোনোদিন বাবা হতে পারবো না, আমাকে ক্ষমা করো। তুমি অনত্র বিয়ে করে সুখী হও। সেদিন আমার বরের সাথে আমিও কেঁদেছিলাম অনেক।

আমার মেজো দেবরের বৌ প্রেগনেন্ট। সে আমাকে আপু বলে ডাকে। প্রেগনেন্ট হবার পর সে আমার সমানেই আসে না। একদিন দুপুরে তাকে ডেকে বললাম, কিরে সোমা!! এতবড়ো খুশির সংবাদ তুই লুকিয়ে রেখেছিস? সেদিন সোমা কেঁদে কেঁদে বলেছিলো, “জানো আপু, অামি অাল্লাহর কাছে দোয়া করি অামার যেন জমজ সন্তান হয়। অামি তোমাকে অামার একটি সন্তান দিয়ে দেব। কান্নায় চোখ ভিজে গিয়েছিলো আমার সেদিন।

সোমার জমজ মেয়ে হয়েছে। আল্লাহ এক সাগর দয়া নিয়ে আমাদের সামনে এসেছেন। যেদিন হয়েছে সেদিনই অামাকে তার এক মেয়েকে দিয়ে দিছে। অামার দেবর, শশুড় – শাশুড়ী কেউ অাপত্তি করেনি। স্বামী যেখানে চাকরী করে অামরা যেখানে বাসা নিয়েছি।

অামার মেয়ে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। তার নাম রেখেছি আনিকা। জমজ সন্তান নাকি দেখতে একই রকম হয়। তবে আনিকার চেহারার সাথে সোমার মেয়ের চেহারা আর দৈহিক গঠন অালাদা। অাল্লাহ আনিকাকে অামার জন্যই পাঠিয়েছে। তার জন্য দোআ করবেন।

ভালোবাসা ভালো থাকে, শহরতলীর গলিতে গলিতে তাদের নিয়েই গল্প হউক 💞💞💞

Leave a Comment: