হযরত নূহ (আ:) এর কাছে এক বৃদ্ধ মহিলা কান্না করতে করতে এসে বললেন

হযরত নূহ (আ:) এর কাছে এক বৃদ্ধ মহিলা কান্না করতে করতে এসে বললেন

হযরত নূহ (আ:) এর কাছে এক বৃদ্ধ মহিলা কান্না করতে করতে এসে বললেন: ইয়া নবী!! আমার ছোট্ট বাচ্চাটি মারা গিয়েছে। হযরত নূহ আ: বৃদ্ধ মহিলাকে শান্ত করতে বললেন: আপনার বাচ্চার বয়স কত? বৃদ্ধ মহিলা বললেন: মাত্র ৩৫০ বছর। নূহ (আ:) জবাবে বললেন: মা একসময় পৃথিবীতে মানুষের আয়ু হবে ৬০-৭০ বছর। আর সেই অল্প আয়ুতে তাদের আখেরাত নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল ২০০০ বছর।

যাইহোক, আমাদের এই ছোট্ট একটি জীবন, আসলেই কি এই জীবনের প্রতি আমরা সদাচরণ করতে পেরেছি? অযুত মিলিমিটার বাতাসের তীব্রতায় হারিয়ে গিয়েছে নাগরিক সিগন্যাল। হতাশা, ডিপ্রেশন, ভালো রেজাল্ট, ভালো জায়গায় চান্স, দুনিয়া শান্তি, পাশের বাসার আন্টির মুখে তালা, মোটিভেশন, কম্পিটিশন, লাসেরশন এতো লজিকের মাঝে এখন আমরা এক একজন জিন্দা লাশ তাও আবার এই অল্প বয়সে।

মাননীয় স্পিকার, আমাদের সবার সময় হয়ে গিয়েছে আর একটিবার নিজের মত করে বাঁচার, লজিকের না নিজের হৃদয় যা বলে তা আরেকটিবার শোনার। আমার বয়স যখন ১৮, একদিন আমি পথে দেখলাম একটি মৃত পাখি পরে আছে, আমি এতটাই কষ্ট পেয়েছিলাম যে আমি কান্না করতে করতে লন্ডন ডাগেনহাম কাউন্সিলে ফোন দিয়ে বললাম: স্যার এইখানে একটা মৃত পাখি পরে আছে, আমি এইটাকে কি করব? তারা ব্যাপারটি এতো সিরিয়াসলি নিলো, তারা এসে পাখিটি পরীক্ষা করলো, কেন এই পাখিটি মরলো, ভাইরাসে নাকি severe heart disease কারণটা কি?

দিন গেলো আরেকটু বড় হলাম কোরিয়ান মুভি দ্যা সাইলেন্স অব ওয়ার্ল্ড এ দেখলাম, একটি অর্ধমৃত পাখিকে দেখে ছোট্ট শিশু সু ইয়ান তার আঙ্কেল কিম সাংকে কান্না করতে করতে বললো: আঙ্কেল তুমি এ পাখিটি বাঁচানোর চেষ্টা করছো না কেন? উত্তর আংকেল বললো: যে জিনিষটা আমরা পাল্টাতে পারবো না, তার জন্য চেষ্টা করা বৃথা, আর এটাই লজিকাল। আসলেই তো!! সেই থেকে লজিক যে মনে ঢুকলো, মন চলে গেলো মেঘমুক্ত মাঠের বাইরে।

জাস্ট লাইক Paulo Coelho’r “Alchemist” বইয়ের সেই রুটিওয়ালার মত। যে স্বপ্ন দেখতো পর্যটক হবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন সত্যি করে ফেরীওয়ালার মত দেশবিদেশ ঘুরে বেরানোর চেয়ে রুটিয়ালার জীবন তখন সমাজের চোখে অধিক সম্মানের ছিল। তাই সমাজকে খুশী করতে গিয়ে তার আর স্বপ্ন পূরন করা হয়নি।

আরও পড়ুন —-কেমন ছিলেন দেখতে আমাদের রাসূল (ﷺ) 

মাননীয় স্পিকার, আমাদের সবারই সময় হয়ে গিয়েছে ব্রেইন না নিজের মনটা কি বলে তা শোনার আর “গরু থিওরি” ব্যবহার করার। কারণ, ছোটবেলায় ইসমাইল স্যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আচ্ছা টিচার আমরা যে বলি এটা গরু!! একটা নিন্মশ্রেণীর প্রাণী, এই গরুর চোখে আমরা কি? তিনি বললেন মানে? না মানে টিচার একটা গরু যে আমাদের এতো উপকার করে, দুধ দেয়, আমাদের প্রতি ভালোবাসায় তাদের চোখ চিক চিক করে তারপর আমরা কি প্রতিদান দেই তাদের? জবাই করে খেয়ে ফেলি!! আসলেই কি আমরা তাদের ভালোবাসার সঠিক মূল্য দিতে পেরেছি? উত্তরে তিনি বলেছিলেন: ওই গরুর চোখে আমরা পৃথিবীর নিন্মশ্রেণীর পশু!!

কদাকার, জালিম, ইগো বিশিষ্ট, বেয়াদপ, জাগমেন্টাল, মানুষকে কটাক্ষকারী তাই আমরা ভালোবাসার মানুষদের সঠিক মর্যাদা দিতে পারি না, তাদের বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারি না, জান থেকে জানোয়ার হতে সময় লাগে না, আমাকে যখন কোন আপু বলে আমার হাজবেন্ড ওসি, সে রোজরাতে আমার গায়ে হাত তুলে, আমাকে বেশ্যা বলে গালি দে আমি তখন চুপ করে চলে আসি উত্তর দিতে পারি না।

শেষ কবে আম্মুকে নিয়ে আমরা ভালো রেস্টুয়ারেন্টে খেয়েছি মনে করতে পারি না, আব্বুকে শার্ট গিফট করে জড়িয়ে ধরেছি বা বায়না ধরেছি মনেই পরে না। জানি আমার কথাগুলো প্যারাডক্সিকাল। কিন্তু বাস্তবে মাঝে মাঝে আমারো বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে মানুষ লজিক না ঠিক তার পরিষ্কার মনের মত স্বচ্ছ। ভালো ক্যারিয়ার গড়তে না পার তাতে কি?

আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে ভয়ে বালিশ নিয়ে আব্বু আম্মুর মাঝখানে শুয়ে বল ভয় লাগছে!! একটু তোমাদের মাঝে ঘুমাব? ক্ষতি কি? ভালোবাসার মানুষকে ভালোবাসি পরে বল: আগে বল তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, যতই ভুলই কর আমি তোমার পাশে থাকবো, বললে ক্ষতি কি? রিলেশনশিপে আমরা শুধু অর্জন এর পিছনে ছুটি, কিন্তু সেই “অর্জন আর রক্ষা” বা “রক্ষা বা প্রাপ্য সম্মান” দুইটাই হরাইজন্টাল আর ভার্টিক্যাল।

তাই সবকিছু ঠিকঠাক পরের জন্মে আমাদের আবার সাক্ষাত দুই ঠেংয়ালা মানুষ হওয়া অতীব জরুরি।

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার।

Leave a Comment: